Codenbox Advertisement

Vol: 08 / Issue: 209 / Sunday, July 20 2014 | TOLL FREE: 1-888-884-3777 / ISSN 1929-2759

Highlights

কেলগেরিতে বাইতুল মোকাররম ইসলামিক সেন্টার (ইগওঈঈ) এর উদ্যোগে ইফতার ও ডিনার পার্টি

কেলগেরিতে বাইতুল মোকাররম ইসলামিক সেন্টার (ইগওঈঈ) এর উদ্যোগে ইফতার ও ডিনার পার্টি ”

 

Read More

ক্যালগ্যারীতে আগামী ১৬ আগষ্ট থেকে শুরু হতে যাচ্ছে কোরান শিক্ষার ক্লাশ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
আগামী ১৬ আগষ্ট ক্যালগ্যারীর বাংলাদেশ সেন্টারে অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে কোরান শিক্ষার আস

Read More

ঈদের আনন্দ

বায়াজিদ গালিব, কেলগেরি
ছেলেবেলায় আমরা ঈদের আনন্দ যতটা উপভোগ করতাম তা এখনো আমাদের মনে মধুর স্মৃতি হিস

Read More

আই ই বি কানাডা ওভারসিজ চ্যাপ্টার এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

যোগাযোগ ডেস্ক
বাংলাদেশ গত ৬ জুন তারিখে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কাউন্সিল এর ৫৭৪ নম্বর সভায় চলতি মেয়াদের জন

Read More

নাইজেরিয়ায় অপহৃত স্কুল ছাত্রীদের পরিবারের পাশে মালালা

যোগাযোগ ডেস্ক
নাইজেরিয়ায় অপহৃত দুইশ'র বেশি স্কুলছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন পাকিস

Read More

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে-২

মাহমুদুল ইসলাম সেলিম, কেলগেরি
ক্যালগেরিতে এটা হবে আমার দ্বিতীয় ঈদ। কিন্তু মনে কোন আনন্দ নাই। নিয়ম মা

Read More

শেষ হয়েছে বিশ্বখ্যাত জ্যাজ ফেস্টিভ্যাল

সদেরা সুজন
গত সপ্তাহে শেষ হয়েছে বিশ্বখ্যাত জ্যাজ ফেস্টিভ্যাল। জ্যাজের আমেজ শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছ

Read More

শোক সংবাদ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বখতিয়ার বিবি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব প্রধান শিক্ষিকা ‘রত্মগর্ভা মা’ শ্

Read More

ভিএজি,বি জাতীয় শোক দিবস পালন করবে

যোগাযোগ ডেস্ক
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৩৯তম শাহাদত বার্ষিকী তথা জাতীয় শোক দিবস পালন উ

Read More

Home

ঈদের আনন্দ

বায়াজিদ গালিব, কেলগেরি
ছেলেবেলায় আমরা ঈদের আনন্দ যতটা উপভোগ করতাম তা এখনো আমাদের মনে মধুর স্মৃতি হিসেবে গেঁথে আছে। নতুন জামা-কাপড়, নতুন জুতা সঙ্গে নিয়ে বিছানায় শুয়ে অনিদ্রায় রাত কাটাতাম সকালে অপেক্ষায়। ঈদে নতুন জামা কাপড়ের গন্ধ , সালাম করলেই বড়দের কাছ থেকে ঈদি পাওয়ার আনন্দ ভোলা যায় না। ছোটবেলায় ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়ি যেতাম। সব খালাতো, মামাতো ও চাচাতো ভাই বোন ও আত্মীয় স্বজনের সম্মেলন একটা বিশাল আনন্দ ছিল। ঈদের আগের দিন রাতে রান্নাবান্নার ধুম, হৈচৈ আর গল্প গুজবে প্রায় রাত পার হয়ে যেতো মা খালাদের। আমার রাতে বারবার ঘুম ভেঙ্গে যেতো আর জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখতাম দিনের আলো দেখা যায় কিনা। অনিদ্রায় কোন ক্লান্তি স্পর্শ করতো না। কাক ডাকা ভোরে শীতল পানিতে গোছল করার মাধ্যমে ঈদের যাত্রা শুরু হতো। এর মাঝেও অনেক আনন্দ ছিল। বাবার সাথে দল বেধে ঈদের জামাতে যেতাম। ঈদের দিন বাবা শাদা পাঞ্জাবি পায়জামা পড়তেন। পায়ে থাকতো বিদ্যাসাগর চটি জুতা। সে সময় শাদা পায়জামা পাঞ্জাবীই আমরা পড়তাম। বর্তমানে নানা রঙের পায়জামা পাঞ্জাবী পাওয়া যায়। ঈদগাহ মাঠে বাবার পাশে দাড়িয়ে নামায শেষ করেই বাবাকে সালাম করতাম। বাবা বুকে টেনে নিয়ে কোলা কুলি করতেন। আমাদের ঈদি দিতেন হাসি মুখে কাঁচা টাকার একটি করে মুদ্রা। বাড়ি ফিরে সবাই একসাথে খাবার খেতাম। তারপর আত্মীয় স্বজনের বাসায় বেড়ানোর ধুম। দিনের শেষে হিসাব করতাম কত টাকা পেলাম। কি সুখের আর মজার ছিল সেই দিনগুলি। বর্তমানে বিদেশে আমি কোন দিন ঈদের সেই মজা অনুভব করি না যা কিনা অনুভব করতাম দেশে থাকাকালীন সময়েও। সেই ছোটবেলা থেকে শুরু করে অনেক বড় হয়েও দেশে ঈদের আনন্দ কখনোই কম মনে হোতো না। বর্তমানেও দেশে ও প্রবাসে শিশুরা আনন্দ করছে কিন্তু তাদের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বিজ্ঞানের যুগে জামা কাপড়ের সঙ্গে ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জাম যেমন, আই ফোন, আই-পড, আই-প্যাড সহ অন্যান্য দ্রব্য সামগ্রী তাদের অন্যতম চাহিদা বা আনন্দের উৎস। তবে বর্তমানে বাচ্চাদের সংগে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেবার পর যে অসম্ভব সুখ বোধ করি সেটাই হচ্ছে আমাদের আনন্দ। কতোটুকু দিয়ে অংশগ্রহণ করছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী অংশ নিচ্ছি সেটাই বড় কথা। আমাদের ছেলেবেলায় কোন ধর্মীয় বোধের জন্ম না হলেও, আমাদের ছিল ঈদের অফুরন্ত আনন্দ। এ গেলো ছেলে বেলার কথা। দিন বদলের সাথে সাথে অনেক কিছুই বদলে গেছে। বদলে গেছে আনন্দের পদ্ধতিও। বর্তমানেও বিভিন্ন সমাজে, বিভিন্ন ভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করা হয়। অনেক ভাবে আনন্দ-উল্লাস করে থাকে। সময়ের সাথে আনন্দের ধারাও বদলে গেছে। তবু টেলিভিশনে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন নাটক, নাচ গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনেকে আবার মনের আনন্দে গান গায় এবং অনেকে গান শুনে, বাড়িতে বাড়িতে আবার গানের আসর বসানো হয় ঈদের পরবর্তী দিনগুলোতে। তবে যে যেভাবেই আনন্দ করুক না কেন তা হতে হবে শালীনতা বজায় রেখে। অনেকে মনে করেন গান নিষিদ্ধ বা হারাম। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআন শরিফে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। বরঞ্চ শালীন গান পরিবেশনের পক্ষে হাদিস রয়েছে। যেমন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন আমার ঘরে আগমন করলেন, তখন আমার নিকট দু’টি ছোট মেয়ে গান গাইতেছিল, বুয়াস যুদ্ধের বীরদের স্মরণে। ইতোমধ্যে আবু বকর রাদি আল্লাহু আনহু ঘরে প্রবেশ করে এই বলে আমাকে তিরস্কার করতে লাগলেন যে, নবীজির ঘরে শয়তানের বাঁশি! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কথা শুনে বললেন, মেয়ে দুটিকে গাইতে দাও হে আবু বকর! প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এটি আমাদের ঈদের দিন”। [সহীহ বুখারি : ৯৫২] সে যাই হোক ঈদ মানেই আনন্দ। এই আনন্দ, বিভিন্ন আঙ্গিকে আলোচনা করা যেতে পারে। ঈদ প্রকৃত অর্থে কি সেটা আমাদের জানা দরকার। ঈদের আনন্দ রমজানের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। রোজা ছাড়া ঈদের কোনই আনন্দ নেই। ইসলামরে বিরাট একটি রুকন পবিত্র রামাযান মাসের রোজা পূর্ণ করার পর কেন ঈদুল ফিতর আনন্দের বার্তা নিয়ে আমাদের কাছে আগমণ করে সেটা জানা দরকার। পূর্ণ একমাস সিয়াম সাধনা করে, রাতগুলো বিভিন্ন এবাদতের মাধ্যমে জাগরণ করে রহমত, মাগফিরাত ও জান্নাতের আশায় আল্লাহর দরবারে কাকুতি-মিনতি করতে পেরে একজন সফল মু’মিন আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করবেন। তিনি আনন্দিত ও খুশী হবেন। আল্লাহ যেহেতু তাকে পূর্ণ একমাস সিয়াম পালন করার তাওফীক দিয়েছেন, তাই তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবেন, তাঁরই বড়ত্ব বর্ণনা করবেন এবং তাঁরই পবিত্রতা ঘোষণা করবেন। এটাই আনন্দ। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ঈদ। শাব্দিক অর্থে ঈদুল ফিতর হলো "প্রাতরাশ উৎসব"। এক অর্থে ৩০ দিন অভুক্ত থেকে মুসলমানরা সেইদিন প্রাত:রাশ গ্রহন করে এবং তার জন্যে আনন্দ প্রকাশ করে। মুলত এই উৎসবের শুরু হয় ভোরে। ঈদের জামাত শেষে নিজেদের মধ্যে খাবার শেয়ার করা। ভাল আর পরিচ্ছন্ন পরিচ্ছন্ন পোষাক পড়ে পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে। খুবই সাদামাঠা এই উৎসবের মুল লক্ষ্য ৩০ দিনের কৃচ্ছতা সাধনার শেষে স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা। অন্য অর্থে, আধ্যাত্মিক আনন্দের অপার উৎস ঈদুল ফিতর। এক মাসের সংযম সাধনায় উত্তীর্ণ হওয়ার আনন্দ হল এই উৎসব। নফসের কুমন্ত্রণা ও কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে এক মাসের মানসিক যুদ্ধ এবং এটা একজন রোজাদারের জন্য নফসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিজয়। ঈদের দিন হচ্ছে সেই বিজয়ের অভিষেকের দিন। যে এই মানসিক যুদ্ধে বিজয়ী হয়, সে অভিজ্ঞতার আলোকে সারা বছরই নিজেকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রেখে নিজেকে আদর্শ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়। তাছাড়াও এক মাসের সংযম সাধনায় একজন মু'মিন মুসলমান অর্জন করে খোদাভীতি এবং রোজার সুবাদে সব ধরনের মন্দ ও অসৎ স্বভাব দূর হয়ে যায় বলে এই ঈদকে বলা হয় প্রকৃত মানবীয় স্বভাবগুলোর কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার উৎসব। অন্য কথায় ঈদুল ফিতর হচ্ছে পাক পবিত্র হওয়ার উৎসব ও মানবীয় প্রকৃতিকে ফিরে পাওয়ার উৎসব। তাই এই ঈদের আনন্দ কেবল তার জন্যই প্রযোজ্য, যে নিজেকে সংশোধন করতে পেরেছে ঠিক যেমন ইফতার করা কেবল রোজাদারের জন্যই শোভনীয। তাই রমজানের শেষে শাওয়ালের চাঁদ বয়ে আনে ঈদের বার্তা বা খুশির বার্তা। ঈদের দিনে এক মাসের সংযম অনুশীলনের প্রশিক্ষণ-কোর্সে উত্তীর্ণ মুসলমানরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রশংসাসূচক ও কৃতজ্ঞতা-জ্ঞাপক নানা বাক্য উচ্চারণ করে ছুটে যান প্রেমময় ঈদের জামাতে। রোজার মাসে মু'মিন মুসলমান ভালভাবেই উপলব্ধি করতে পারেন দরিদ্রদের ক্ষুধা-তৃষ্ণার যাতনা। তাই ইসলামী ঐতিহ্য বা প্রথা অনুযায়ী ঈদের জামাতে যাওয়ার আগেই তারা পরিশোধ করেন ফিতরা, যার সব অর্থ দরিদ্র, ছিন্নমূল, ইয়াতিম ও নিঃস্ব ব্যক্তিদের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। ঈদের জামাতের আগেই ফিতরা পরিশোধ করা উত্তম। পবিত্র বা নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদের জামাতে যাওয়ার পথে বা ঈদুল ফিতরের সমাবেশে উপস্থিত হয়ে মুসলমানরা উচ্চস্বরে বলেন, "আল্লাহ সবচেয়ে বড় বা মহান এবং এত মহান যে তা বর্ণনা করা সম্ভব নয়,এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মা'বুদ বা উপাস্য নেই, আল্লাহ সবচয়ে বড়, সব প্রশংসা একমাত্র আল্লাহরই জন্য, আমাদের সুপথ দেখানোর জন্য তোমার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি হে আল্লাহ! এবং আমাদের যা দান করেছেন সে জন্য তোমায় ধন্যবাদ।" বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা-জ্ঞাপক বা প্রশংসাসূচক এই জাতীয় বাক্যগুলো উচ্চারণের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি নিজেও তা করতেন। এমনকি খুতবা দেয়ার আগে ও পরে মহানবী (সা.) এইসব বাক্য উচ্চারণ করতেন। পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানরা যে খোদাভীতি ও উন্নত স্বভাব-চরিত্র অর্জন করতে সক্ষম হয় তা সারা বছর এবং সারা জীবন ধরে রাখা খুবই জরুরি। মুসলমানরা যদি পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের প্রকৃত শিক্ষাগুলোর আলোকে নিজেকে, ইসলামী সমাজকে এবং মুসলমানদের ও গোটা মানবজাতির অবস্থাকে উন্নত করতে সক্ষম হয় তাহলেই ঈদ ও রোজা হবে সার্থক। ইসলাম মানব-প্রকৃতির ও প্রকৃত মানবতার ধর্ম। তাই প্রকৃত মুসলমান ঈদের দিনে ভুলে যেতে পারেন না প্রতিবেশীর বা আত্মীয়-স্বজনের দুঃখ-বিপদের কথা, ভুলে যেতে পারেন না মৃত ব্যক্তিদের কল্যাণের কথা যারা ছিলেন ঘনিষ্ঠজন, পিতা-মাতা, কিংবা প্রতিবেশী। ঈদের দিনে আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়, অন্নহীন, দরিদ্র, ভুগা-নাঙ্গা, ঋণগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত, অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত, বন্দী, অভাবগ্রস্ত প্রবাসী বা মুসাফির ও মজলুম বা বঞ্চিত মানুষদের কথা। সাধ্য অনুযায়ী এইসব মানুষের সেবা করা উচিত একজন মানুষ হিসেবে। ঈদ মানে খুশি , ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে প্রসন্নতা, ঈদ মানে আহĐাদ, ঈদ মানে উল্লাস। এই যে এত আনন্দ , এত উল্লাস, এটা সবার সাথে ভাগ করে নিলে জীবনের বাস্তবতা খুজে পাওয়া যায় আর ঈদের আনন্দও পূর্ণতা পায়। আমাদের দেশে অনেকে দরিদ্র পরিবার আছেন যাদের জন্য ঈদের দিনটা নিদারূণ যন্ত্রণার এবং তাদের জন্য ঈদ যেন এক বিষণ্ণ মনের প্রচ্ছন্ন অশ্রু বিসর্জন। আমাদের উচিৎ তাদের পাশে দাঁড়ানো। যেহেতু রোজার এক মাস সংযমের মাধ্যমে আমাদের নিজেদের সংশোধন করতে পেরেছি, এই অর্জনকে বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকট দূর করার কাজে ব্যাবহার করাও আমাদের কর্তব্য । ঈদ আমাদেরকে শিক্ষা দেয় যে, বিশ্বের সকল মুসলিম ভাই ভাই। তাদের মাঝে কোন ভেদাভেদ নেই। আমরা ঈদের দিনে একই সময়, একই স্থানে, একই কাতারে একজন ইমামের পিছনে দাড়িয়ে একই কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে এক মহান আল্লাহর সামনে হাজির হই। এখানে ধনী-গরীব, উঁচু-নীচু, রাজা-প্রজার কোন পার্থক্য থাকে না। এটাকেই অন্তরে ধারন করে আমাদের সবাইকে সৎ হওয়ার শপথ নিতে হবে ঈদের দিনে। মুসলমানরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয় ও পরস্পরের প্রতি সহমর্মী হয় তাহলেই এটা সম্ভব হবে। ত্যাগ ও তিতিক্ষার মাধ্যমে আমাদেরকে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সচেষ্ট হতে হবে। বিলিয়ে দেয়ার আজকের এই ঈদ কেবল দেহ নয় অন্তরও হোক কলুষমুক্ত, সে আশা করি। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ আপনাদের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ, সুখ ও সমৃদ্ধি। ”

 

শেষ হয়েছে বিশ্বখ্যাত জ্যাজ ফেস্টিভ্যাল

সদেরা সুজন
গত সপ্তাহে শেষ হয়েছে বিশ্বখ্যাত জ্যাজ ফেস্টিভ্যাল। জ্যাজের আমেজ শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে জাস্ট ফর লাফস। দম ফাঁটানো হাসির উৎসব। মন্ট্রিয়লের ডাউন টাউনের প্লেস দ্যাজ আর্টসে জাস্ট ফর লাফস ২০১৪। গত ৯ জুলাই থেকে শুরু হলেও চলবে ২৮ জুলাই পর্যন্ত। প্রবাসের কষ্ট কঠিন সময়ের মাঝে সময় হলে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে আসুন। অবশ্যই ভালো লাগবে। শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে রকমারি বিনোদন মূলক আয়োজন। বিভিন্ন রকমের খেলাধূলা, কমেডি শো ছাড়াও রয়েছে লাইভ হাসির উৎসব। পথে পথে যেতে যেতে দেখবেন কতো কিছু হাসির ঘটনা। রয়েছে ইনডোর শো। বিশ্বখ্যাত কমেডিয়ানরা উৎসবে যোগ দিয়েছেন। রয়েছেন ভারতের কমেডিয়ান। তবে এসব উপভোগ করতে টিকিট লাগবে। ১২/১৩ বছর পূর্বে জাস্ট ফর লাফস ছিলো আরো অনেক বড় ব্যাপক বিস্তৃত এলাকা জুড়ে। সারা মাস ব্যাপী ছিলো শত শত ইভেন্ট। প্রায় দেড় কিলোমিটার জুড়ে ‘বেরী ওকাম’ থেকে প্লেস দ্যাজ আর্টস পর্যন্ত চলতো রকমারি অনুষ্ঠান। টুইন র্যা লী, কোর্ণ রোষ্ট করে রকমারি খাবার পরিবেশন করা হতো হাজার মানুষের মাঝে, শুধু কি তাই জাস্ট ফর লাফস কমিটি রকমারি উপহার বিতরন করতো, স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে ঘরে নিয়ে জাস্ট ফর লাফসের টি শার্ট, গিফট এবং পরিচয় পত্র বিতরণ করতো। এখন আর সেই দিন নেই। সংকুচিত হয়ে গেছে জাস্ট ফর লাফসের মেলা। বাইরের রকমারি ইভেন্ট বাতিল করে ইনডোর ইভেন্ট আরো ব্যাপক করা হয়েছে। জানা গেছে এর জন্য জাস্ট ফর লাফস অনুষ্ঠান এলাকার কিছু বাসিন্দাদেরকে দায়ি করা হয়েছে। এলাকায় বসবাসরত কিছু লোভি, স্বার্থপর, সরকারি ভাতায় জীবনযাপনকারী ধর্মান্ধ ব্যক্তিকে দায়ি করা হয়েছে। এসব ব্যক্তিরা স্থানীয় বাসিন্দাদের নাম ও সিগ্নেচার ব্যবহার করে জাস্ট ফর লাফস কমিটিকে জানিয়েছে, এই এলাকায় অনুষ্ঠান করতে হলে এলাকাবাসীকে নজরানা দিতে হবে মানে প্রতি পরিবারকে কয়েক শ’ ডলার করে দিতে হবে। কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে অনুষ্ঠানের জন্য তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে বিঘœ ঘটছে। এর পর থেকে জাস্কট ফর লাফস কমিটির সিদ্ধান্তনুযায়ী সেন্ট লঁরা এলাকায় অনুষ্ঠান করা বন্ধ করে দেয়। আশাহত হবার কারণ নেই। ঘুরে আসুন। ভালো লাগবে। এখনো ভালো ভালো অনুষ্ঠান হচ্ছে। গাড়ী নিয়ে না যাওয়াই ভালো। ডাউনটাউন বলে কথা, পার্কিং পাওয়া কঠিন হবে। আর কয়েক ঘন্টার জন্য পার্কিং করতে হলে অনেক ডলার ঢালতে হবে। মেট্রোতে আসলে, মেট্রোও চড়াও হবে হাসির উৎসবও দেখা হবে। মেট্রো প্লেস দ্যাজ আর্টস কিংবা সেন্ট লঁরা তে নেমেই দেখতে পাবেন অনুষ্ঠানগুলো। ঘুরতে ঘুরতে দেখতে দেখতে ক্ষুধার্ত হলে অসুবিধা নেই, রকমারি রেঁস্তোরা রয়েছে। রয়েছে ইন্ডিয়ান রেঁস্তোরাও। সিঙ্গারা মিষ্টি সবই পাবেন সেখানে। ”

 

Jogajog Current Issue
Jogajog Archive

Rafique Bhuiyan, Chief Editor, Weekly Jogajog- Published From Charka Advertising Inc.

PO BOX-32169,109- 2223 VICTORIA AVENUE REGINA. SK. S4N7L2, Canada .

Toll Free - 1.888.884.3777, 1.306.999.3077 Email: info@thejogajog.com, Copyright © 2014-2015 www.thejogajog.com